পকেটে রাখা চাবি বা কয়েনের ঘষা লেগে কি ফোনের ডিসপ্লে দাগ পড়ে যেতে পারে? আপাতদৃষ্টিতে এমনটা মনে হলেও আধুনিক স্মার্টফোনের ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে এটি একটি বিরাট ভুল ধারণা। গোরিলা গ্লাসের মতো শক্তিশালী আবরণ ধাতব বস্তুর আঘাত সহ্য করতে পারলেও এমন কিছু সাধারণ উপাদান রয়েছে যা অলক্ষ্যেই আপনার ফোনের স্ক্রিন ধ্বংস করে দিচ্ছে। আপনার শখের ডিসপ্লে সুরক্ষিত রাখতে আসল শত্রু চেনা এবং সঠিক স্মার্টফোনের স্ক্রিন সুরক্ষার পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি।
খনিজ পদার্থের কাঠিন্য মাপার জন্য বিজ্ঞানীরা 'Mohs Hardness Scale' ব্যবহার করেন। এই স্কেল অনুযায়ী সাধারণ লোহার চাবি বা তামার কয়েনের কাঠিন্য ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে। অন্যদিকে আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত কাঁচের কাঠিন্য সাধারণত ৬ বা তার বেশি। ফলে ধাতব বস্তু দিয়ে ঘষা দিলেও কাঁচ সহজে আঁচড়প্রবণ হয় না।
আপনার পকেটে থাকা চাবি নয়, বরং ধূলিকণায় লুকিয়ে থাকা কোয়ার্টজই হলো ডিসপ্লের সবচেয়ে বড় শত্রু।
আমাদের চারপাশের সাধারণ ধুলোবালিতে প্রচুর পরিমাণে 'কোয়ার্টজ' বা সিলিকা বালুকণা থাকে, যার Mohs স্কেলে কাঠিন্য ৭। যখন আপনি পকেটে ফোন রাখেন বা প্যান্টের কাপড়ে স্ক্রিন মোছেন, তখন এই ক্ষুদ্র বালুকণা কাঁচের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। ফলে তৈরি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত সূক্ষ্ম দাগ।
প্লাস্টিক ফিল্মের বদলে ভালো মানের ৯H কাঠিন্যের গ্লাস প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন। এটি বালুকণার সরাসরি আঘাত থেকে স্ক্রিনকে রক্ষা করে।
এমন ব্যাক কভার ব্যবহার করুন যার সামনের অংশটি স্ক্রিনের চেয়ে সামান্য উঁচু। এতে ফোন সমতল স্থানে উপুড় করে রাখলেও গ্লাস সরাসরি স্পর্শে আসে না।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে গ্লাস সুরক্ষা অনেক উন্নত হলেও অসচেতনতার কারণে প্রিয় ডিভাইসের ক্ষতি হতে পারে। আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিন সুরক্ষার জন্য এই ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে ফোন থাকবে একদম নতুনের মতো।
আপনার ফোনের স্ক্রিনে কি কখনো অজান্তে দাগ পড়েছে? স্ক্রিন সুরক্ষায় আপনি কী ধরণের প্রোটেক্টর ব্যবহার করতে পছন্দ করেন? কমেন্টে আমাদের জানান!









